/div>

জনপ্রিয় পোষ্টসমূহ

Blogger Tricks

থ্রি-জি মোবাইল: আশা আর শঙ্কায় গ্রাহকরা


বাংলাদেশের তৃতীয় প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বা থ্রি-জি এখন বেসরাকারি খাতের জন্ম উন্মুক্ত করা হচ্ছে। থ্রি-জি লাইসেন্সের জন্য বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের ১লা আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে লাইসেন্সের নিলাম হবে সেপ্টেম্বর মাসে।
রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান টেলিটক প্রায় এক বছর আগে থেকেই থ্রি-জি লাইসেন্স সুবিধা ভোগ করে এলেও বেসরকারি অপারেটররা এই সুযোগ পাবেন সেপ্টেম্বর মাসের নিলামের মাধ্যমে।
নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা ফি হিসেবে দুকোটি ডলার জমা দিতে হবে।
বিটিআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বেসরকারি মোবাইল অপারেটররা আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন ১লা আগস্ট পর্যন্ত। চারটি অপারেটর এই নিলামে অংশ নিতে পারবে।
এই সুবিধার ফলে সরকারি এবং বেসরকারি টেলিযোগাযোগ খাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সম-সুযোগের অবকাশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
বিটিআরসির কমিশনার আব্দুস সামাদ মনে করেন এই সুবিধা পেলে নতুন এক সম্ভাবনার দরোজা খুলে যাবে।
তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের মাধ্যমে থার্ড জেনারেশন মোবাইল একবছর হলো চালু হয়েছে, এবার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য বেসরকারি অপারেটরদের মাঝেও এই সুবিধা চালু করার উধ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্য রেখেই সেপ্টেম্বরের দুই তারিখে নিলামের দিন ঠিক করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি গতিশীল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল প্রযুক্তি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে।”
থ্রি-জি প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত গতির ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয় । এক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে কোনও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই এই সুবিধার আওতায় পারবেন।
কিন্তু বাংলাদেশের অবকাঠামোগত যে সুবিধা তাতে থ্রি-জি সুবিধা কতটা কার্যকরভাবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে আশঙ্কা রয়েছে।
এমনই একজন গ্রাহক আহমেদ জামান সঞ্জিব বলেন, “থ্রি-জি যদি সহজলভ্য হয় এবং অল্প খরচে যদি ভালো গতি পাওয়া যায় তাহলে সেটি আসলেই অনেক বড় পাওয়া হবে। আর ভিডিও কলিং বা ইন্টারনেট ফোন যেটা সেগুলো তো বাড়তি সুবিধা হিসেবে থাকবেই। তবে দেশের যে ব্যান্ডউইথ বা সাইবার অপটিক কেব্‌ল লাইন যেটি আছে সেখানে খুব বেশি আশা করা উচিত হবে না।”
বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে যখন চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি বা ফোর-জি চালু হয়ে গেছে সেখানে বাংলাদেশে থ্রি-জি নিয়ে খুব বেশি আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন টেলিযোগাযোগ বিষয়ে বিশ্লেষকরা।
অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব আবু সাইদ খান বলেন, সরকারের শেষ সময়ে এসে এটি নিলামের মাধ্যমে বিশাল অংকের অর্থ সংগ্রহের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। সেখানে কতখানি সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তারা সেটি পাবেন সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
“এর মাধ্যমে তারহীন উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট পাবেন ভোক্তারা, তবে কতখানি সাশ্রয়ী মূল্যে তারা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ সরকারের উদ্দেশ্য কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া নয়। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে থ্রি-জি বেতার তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে এককালীন বহু টাকা উপার্জন করা। এর মাধ্যমে খুব দ্রুত অনেকগুলো টাকা কামিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য সরকারের রয়েছে।”
আবু সাইদ খান আরো বলেন, এখন দরকার সবগুলো অপারেটর যাতে অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো সমন্বিতভাবে ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া এবং লাইসেন্স দেয়ার শর্ত হিসেবে স্বল্পমূল্যে বেতার তরঙ্গ দিয়ে খুব দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা।

No comments:

Post a Comment

Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks

টোটাল পেইজ ভিউজ